বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাওয়ার সহজ উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই আর্টিকেলটিতে। ইউরোপ, হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের এক ভাণ্ডার। শুধু ইতিহাসেই নয়, অর্থনৈতিক উন্নতিতেও তারা অনন্য। যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে ইউরোপ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এরপর থেকে ইউরোপের পথচলা মসৃণ। অর্থনীতির চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির অধিকাংশই ইউরোপের সৃষ্টি। তাইতো উন্নত বিশ্বের আরেক নাম ইউরোপ।
উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ভিড় জমায় ইউরোপের দিকে। সঠিক পন্থা না জানার কারণে অনেকেই ভুল পথে পাড়ি জমায়। প্রতারণা, বিপদে পড়ার ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। এজন্য আপনাকে জানতে হবে ইউরোপে যাওয়ার সহজ উপায়।
ইউরোপে যাওয়ার সহজ উপায়
প্রতি বছর, অসংখ্য বাংলাদেশী অভিবাসী উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, বা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। দুঃখজনকভাবে, অনেকেই প্রতারকদের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারান, অথবা নিষ্ঠুর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন।
অনেকেই মনে করেন, অবৈধ উপায় ছাড়া ইউরোপে যাওয়া অসম্ভব। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা এবং নির্দেশনার মাধ্যমে, বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করে সুন্দর জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।
বৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সহজ উপায় রয়েছে। ইউরোপের যেসব দেশে খুব সহজে ভিসা পাওয়া যায় সেসব দেশ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। এরপর আপনাকে জানতে হবে ইউরোপের কোন দেশগুলো সেনজেনভুক্ত এবং কোন দেশগুলো সেনজেনভুক্ত নয়।
সেনজেনভুক্ত যেসব দেশে ভিসা পাওয়ার সহজ সে সব দেশের ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সেনজেনভুক্ত দেশের ভিসা পেলে আপনি এক ভিসা দিয়ে ২৬টি দেশে ভ্রমন করতে পারেন। এজন্য আলাদা কোন ধরনের ভিসা বানাতে হবে না।
আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবের ১ রিয়াল বাংলাদেশের কত টাকা
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
ইউরোপ মহাদেশের প্রায় ৫০ টি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ টি দেশ রয়েছে সেনজেন ভুক্ত দেশ। সবগুলো দেশের দূতাবাস আমাদের দেশে নেই। ৭টি দেশের দূতাবাস আমাদের দেশে রয়েছে এবং বাকি কিছু দেশ এইসব দূতাবাসের অধীনে কাজ করে থাকে। নিচের টেবিলে ইউরোপের উল্লেখযোগ্য কিছু দেশের নাম তুলে ধরা হলো যেগুলোতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যায়। তবে সবগুলো দেশে সরাসরি যাওয়া যায় না।
ক্রমিক নম্বর | দেশের নাম |
---|---|
1 | রাশিয়া |
2 | আলবানিয়া |
3 | আন্দোরা |
4 | আর্মেনিয়া |
5 | অস্ট্রিয়া |
6 | আজারবাইজান |
7 | বেলারুশ |
8 | বেলজিয়াম |
9 | বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা |
10 | বুলগেরিয়া |
11 | ক্রোয়েশিয়া |
12 | সাইপ্রাস |
13 | চেক প্রজাতন্ত্র |
14 | ডেনমার্ক |
15 | এস্তোনিয়া |
16 | ফিনল্যান্ড |
17 | ফ্রান্স |
18 | জর্জিয়া |
19 | জার্মানি |
20 | গ্রীস |
21 | হাঙ্গেরি |
22 | আইসল্যান্ড |
23 | আয়ারল্যান্ড |
24 | ইতালি |
25 | কোসোভো |
26 | লাতভিয়া |
27 | লিশটেনস্টাইন |
28 | লিথুয়ানিয়া |
29 | লুক্সেমবার্গ |
30 | মাল্টা |
31 | মোল্দোভা |
32 | মোনাকো |
33 | মন্টিনিগ্রো |
34 | নেদারল্যান্ডস |
35 | উত্তর মেসিডোনিয়া |
36 | নরওয়ে |
37 | পোল্যান্ড |
38 | পর্তুগাল |
39 | রোমানিয়া |
40 | সান মেরিনো |
41 | সার্বিয়া |
42 | স্লোভাকিয়া |
ইউরোপ যেতে বয়স কত লাগে
ইউরোপে অনেক দেশ রয়েছে। একেক দেশে একেক রকমের নিয়ম কানুন এবং ভিসা নীতি রয়েছে। শুধু সেনজেনভুক্ত সকল দেশের ভিসা নীতি একই। ইউরোপের আপনি যে দেশে যেতে চাচ্ছেন সেই দেশ লিখে সার্চ দিতে হবে কত বয়স লাগে।
তবে সাধারণত ইউরোপে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে হলে আপনার বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে বয়স অনেক সময় কম হলেও যাওয়া যায়। ১৬ বছরের অধিক বয়সের যে কোন মানুষের একটি বৈধ পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক থাকা লাগবে।